কেন্দুয়া প্রতিনিধি :
নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলার মনকান্দা গ্রামের নিখোঁজ যুবদল নেতা শামীমের পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও জেলা বিএনপির সদস্য সচিব ড. রফিকুল ইসলাম হিলালী।
শুক্রবার (১০ জুলাই) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে তিনি শামীমের গ্রামের বাড়িতে যান এবং তার বাবা, স্ত্রী, ভাইসহ পরিবারের সকল সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন ও গভীর সহমর্মিতা প্রকাশ করেন।
শামীমের পরিবারের মাঝে তীব্র উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে। নেত্রকোনা-৩ ( কেন্দুয়া-আটপাড়া) আসনে বারবার ধানের শীষের নমীনি রফিক হিলালীকে কাছে পেয়ে জড়িয়ে ধরেন পরিবারের সদস্যরা। তাকে না পাওয়ার হতাশার কথা ব্যক্ত করেন করেন। এসময় হিলালী বলেন, ুশামীম শুধু আমাদের দলের কর্মী নয়, সে ছিল একজন সাহসী ও ত্যাগী নেতা। তার নিখোঁজ হওয়া নিছক কোনো দুর্ঘটনা নয়, এটি একটি পরিকল্পিত রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের অংশ বলেই আমরা বিশ্বাস করি।”
ড. হিলালী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “একজন রাজনৈতিক কর্মী ৯ দিন ধরে নিখোঁজ, অথচ প্রশাসনের কোনো অগ্রগতি নেই। আমরা অনেক ধৈর্য ধরেছি। কিন্তু এবার আর নয়। আগামী ৩ দিনের মধ্যে শামীমের কোনো খোঁজ না পাওয়া গেলে আমরা লাগাতার কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবো। জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আমরা রাজপথে প্রতিবাদ গড়ে তুলবো।”
তিনি আরও বলেন, “শামীমকে গুম করে কোনো ষড়যন্ত্র বাস্তবায়ন করতে দেওয়া হবে না। আমরা কাউকে হারিয়ে হার মানতে শিখিনি।”
এসময় উপস্থিত ছিলেন কেন্দুয়া পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোয়াজ্জেম হোসেন খান, গন্ডা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি বোরহান উদ্দিন তমজিদ ও সাধারণ সম্পাদক রনি, সান্দিকোনা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি নজরুল ইসলাম, মাসকা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম সুমন, বিএনপি নেতা সাইফুল ইসলাম, উপজেলা কৃষকদলের সভাপতি মাহাবুব আলম খান মহসিনসহ বিএনপির কয়েক শতাধিক নেতাকর্মী।
উল্লেখ্য, গত ৩ জুলাই রাতে স্থানীয় মডেল বাজারে যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হন যুবদল নেতা রফিকুল ইসলাম ওরফে শামিম (৩৬) । এরপর থেকে তিনি নিখোঁজ রয়েছেন। ঘটনার দুই দিন পর তাঁর ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি একই ইউনিয়নের গৈছাসিয়া গ্রামের একটি সেতুর নিচে পানিতে পাওয়া যায়। এ ঘটনায় শামীমের পরিবার কেন্দুয়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করলেও এখনো পর্যন্ত তার কোনো সন্ধান মেলেনি।
নিখোঁজ শামীমকে ঘিরে এখন এলাকায় রাজনৈতিক চাপা উত্তেজনা ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। পরিবারের কান্না আর নেতাকর্মীদের ক্ষোভ মিলেমিশে যেকোনো সময় অগ্নিগর্ভ রূপ নিতে পারে বলেও জানিয়েছে স্থানীয়রা।