কেন্দুয়া, নেত্রকোনা :
নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলার বলাইশিমুল ইউনিয়নের কুমারউড়া গ্রামে এক চাঞ্চল্যকর ঘটনার জন্ম দিয়েছে বখাটে রাব্বী ও তার সহযোগীদের নির্যাতনে দুই হিন্দু পরিবার বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে।
ভুক্তভোগী পরিবার দুটি হলো খোকন চক্রবর্তী (৪৮) ও তার বোন স্মৃতিরাণী ভট্টাচার্য্য (৭০)। এঘটনায় খোকন চক্রবর্তীর বড় ভাই শিবনাথ চক্রবর্তী কেন্দুয়া থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত রাব্বী স্থানীয়ভাবে চিহ্নিত সন্ত্রাসী প্রকৃতির যুবক। সে একটি বাহিনী গড়ে তুলে এলাকায় ত্রাস সৃষ্টি করে চলেছে। তার মা সীমা চক্রবর্তী ধর্মান্তরিত হয়ে একই গ্রামের আব্দুল খালেকের সঙ্গে বিয়ে করেন এবং মুসলিম ধর্মে দীক্ষিত হন। রাব্বী তাদেরই সন্তান।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, অভিযুক্ত রাব্বী বেশ কিছুদিন ধরে তাদের ওপর চাঁদা দাবিসহ নানা ভাবে হয়রানি ও নির্যাতন করে আসছে। এক পর্যায়ে রাব্বী খোকন চক্রবর্তীর কাছে মোটরসাইকেল কেনার জন্য ৪ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে।
চাঁদা দিতে অস্বীকার করায় রাব্বী ১৪ জুন ধারালো রামদা নিয়ে খোকনের বাড়িতে হামলা চালায়, আসবাবপত্র ভাঙচুর করে প্রায় ৮০ হাজার টাকার ক্ষয়ক্ষতি করে এবং প্রাণনাশের হুমকি দেয়।
সর্বশেষ গত ২৮ জুন অভিযুক্ত রাব্বী আরও ৭-৮ জন অজ্ঞাত সহযোগী নিয়ে আবারও খোকনের বসতবাড়িতে হামলা চালায়। তারা ঘরের ভিতরে ঢুকে খাট, সুকেস, হাড়িপাতিলসহ অন্যান্য আসবাবপত্র ভাঙচুর করে প্রায় ৬০ হাজার টাকার ক্ষতি সাধন করে। অভিযুক্তরা ঘর থেকে ৫০ হাজার টাকা নগদ অর্থ, প্রায় আড়াই ভরি স্বর্ণালঙ্কার (মুল্য ৫ লক্ষ ৬০ হাজার টাকা), ধান ও চাল লুট করে নিয়ে যায়।
হামলাকারীরা টমটম গাড়িতে মালামাল নিয়ে যাওয়ার সময় চিৎকার করে হুমকি দেয়, “আজ মালামাল নিলাম, টাকা না দিলে পরের বার তোদের জান নিয়ে নিব, বাড়িঘর পুড়িয়ে দিব।”
এ ঘটনায় প্রাণভয়ে ভুক্তভোগী পরিবার বর্তমানে কেন্দুয়ার আঠারবাড়ী বাজার এলাকায় আত্মীয়ের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছে।
এ বিষয়ে কেন্দুয়া থানার ওসির সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান,খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়ে খুঁজখবর নিয়েছি। অভিযোগটি তদন্তাধীন রয়েছে এবং প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।